কুষ্টিয়া, ৯ এপ্রিল ২০২৬।। কুষ্টিয়ায় বিলাসবহুল এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণির এক আবাসিক শিক্ষার্থীর মৃ'ত্যু হয়েছে। মৃ'ত ওই শিক্ষার্থীর নাম জুবায়ের।
বুধবার দিবাগত রাত ৩ টায় মৃত অবস্থায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন ওই স্কুল হোস্টেল সহকারী বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়। শিক্ষার্থী জুবায়ের প্রতিষ্ঠানটির নবান্ন আবাসিক ভবনের ২০২ নম্বর কক্ষে থেকে পড়াশোনা করতো। এ মৃত্যুকে স্বাভাবিক মৃত্যু নয় বলে প্রশ্ন তুলে সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্কুলের আবাসিকে থাকা অন্যান্য শিক্ষার্থীরা।
এডুকেয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, ভুক্তভোগী ছাত্রটি শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে ভুগছিলেন। গতরাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে সবাই একসাথে ঘুমিয়ে পড়ে। কয়েক ঘন্টা পরে তার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে রাত ২ টার দিকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসাপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃ'ত ঘোষণা করেন। মৃত জুবায়ের আহম্মেদ (১৪) কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার মহাসীন আলীর ছেলে। সে এডুকেয়ার স্কুলের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোগী মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার শরীর ঠান্ডা ও হাত পা নীল ছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে হাসপাতালে নিয়ে আসার বেশ কিছুক্ষণ পূর্বে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যু ঘোষণার পর রোগীর সাথে আসা দুই জন ব্যাক্তি কর্তব্যরত চিকিৎসকে জানান রোগী কথা বলতে বলতে আসছিল। তাদের কথাবার্তা এলোমেলো ও আবাসিক ভবনে মৃত্যু হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসপাতাল পুলিশকে অবগত করেন। পরে পুলিশ এসে লাশ মর্গে নিয়ে যায় । এর পর থেকে লাশ পোস্টমর্টেম না করার জন্য এডুকেয়ার স্কুল কর্তৃপক্ষ দোরঝাপ শুরু করেন।
জুবায়ের মৃত্যুর পর ওই আবাসিকের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ওই শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সময়মত হাসাপাতালে নেওয়া হয়নি। অন্যান্য শিক্ষার্থীরা অনুনয় বিনয় করে দায়িত্বরত শিক্ষকের পা জড়িয়ে ধরে চিকিৎসার দাবি জানালেও তা মানা হয়নি। মা'রা যাওয়ার অনেক্ষণ পরে তাকে হাসাপাতালে নেওয়া হয়। এছাড়াও তাদের আবাসিক ভবনে আটকে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। আবাসিকে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় কুষ্টিয়া জুড়ে নানা আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবাসিক করতে হলে অন্যান্য শর্তের মধ্যে প্রাথমিক চিকিৎসা (ফার্স্ট এইড) ও অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকা অন্যতম। সে ব্যবস্থা না থাকায় এভাবে শিক্ষার্থীর জীবন ঝড়ে গেলো এবং কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহি করতে হবে বলে মন্তব্য সচেতন মহলের।
মৃত শিক্ষার্থী জুবায়ের আহাম্মদ এর বাবা মহসীন আলী বলেন, আমার ছেলে অসুস্থ ছিল, তার এজমা'র সমস্যা ছিল।
আমার দুই ভাই ডাক্তার, আমার ছেলেকে তারাই নিয়মিত ফোনে চিকিৎসা দিয়ে আসছিল এবং ছেলেও এখন সুস্থ ছিল। কিন্তু এজমার কারনেই সে হটাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে আমার এক ভাতিজাও এই স্কুলে আছে সেই আমাকে ফোন দেয়। এদিকে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ওই স্কুল প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুললেও জুবায়ের এর বাবা বলেন আমার কোন অভিযোগ নেই।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার হোসেন ইমাম জানান, রাতে ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষণার পর রোগীর সাথে আসা দুই জন ব্যাক্তি কর্তব্যরত চিকিৎসকে জানান রোগী কথা বলতে বলতে এসেছে। তাদের কথাবার্তা সন্দেহজনক ও আবাসিক ভবনে মৃত্যু হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসপাতাল পুলিশকে অবগত করেন।পুলিশ এসে লাশ মর্গে নিয়ে যায় এবং আজ সকালে ময়না তদন্ত শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের চেয়ারম্যান মোঃ মোজাম্মেল হক রাসেল মুঠোফোনে বলেন, জুবায়ের নামের ওই শিক্ষার্থী আগে থেকে অসুস্থ ছিল এবং গত রাতে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাৎক্ষণিক তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তৃব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নানা অনিয়মের মধ্যে চলতে চাওয়া অতিউৎসাহী কিছু শিক্ষার্থীরাই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে। তাদের অভিযোগ সত্য নয়।
আপনার মতামত লিখুন :