
রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারী ব্যাংকের (জনতা ব্যাংক) সিল ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসৎ এবং অবৈধ কেনাকাটার মাধ্যমে তহবিল তছরূপের মারাত্মক অভিযোগ!!
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ায় অবস্থিত বেসরকারি রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রয় সংক্রান্ত জালিয়াতি ও ব্যাংকের জাল সিল তৈরি করে অর্থ তছরুপের অভিযোগে গত বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমানকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায় আবু সাঈদ মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে কেনাকাটায় জালিয়াতির এক মহোৎসব চলার বিষয়টি ধরা পড়ে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এবং তদন্তে প্রমাণিত হলে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অর্থ কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু বিওটির সদস্য হওয়ায় বেঁচে যান ড. আবু সাঈদ মোহাম্মদ আলী। উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় শুরুর তারিখ থেকে সর্বশেষ ২০২৫ সালের শেষ দিকে ভাইস চ্যান্সেলর মহোদয় কর্তৃক নিরপেক্ষ ক্রয় কমিটি গঠনের পূর্ব পর্যন্ত তিনিই ক্রয় কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন।
নথিপত্র অনুযায়ী, গত ২৩ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে মালামাল না কিনে এবং ক্রয় কমিটির অন্য সদস্যদের অগোচরে অ্যারিস্টো কম্পিউটার্স এর নামে ২,০৭,৯৫০/- (দুই লক্ষ সাত হাজার নয়শত পঞ্চাশ) টাকার ভূয়া বিল অনুমোদনের জন্য দাখিল করা হয়। মালামাল ক্রয় না করে বিল অনুমোদনের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আসে। পরবর্তীতে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসে যে, কোনো চাহিদাপত্র ও পূর্ব অনুমোদন ছাড়াই এবং মালামাল বুঝে না পেয়েই উক্ত বিল পেমেন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
এই তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে গত ০৮ জুলাই ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ১৪তম জরুরি সভার সিদ্ধান্তক্রমে অর্থ কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমানকে চূড়ান্তভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ ছাড়া জনতা ব্যাংক (রামচন্দ্র রায় স্ট্রিট শাখা, কুষ্টিয়া)-এর নাম ব্যবহার করে জাল 'নগদ জমা' অটোসিল তৈরি ও ব্যবহারের অপরাধে জিয়াউর রহমান এবং বিওটি সদস্য আবু সাঈদ মোহাম্মদ আলী বিরুদ্ধে পৃথক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেছে সিন্ডিকেটের তদন্ত কমিটি। কিন্তু বিওটি সদস্য হওয়ার কারণে মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে এই অভিযোগসহ আরো অনেক অভিযোগের বিচার করা যায় নি। তিনি কেনো জনতা ব্যাংকের জমা সিল নিজ দখলে রেখেছেন জিজ্ঞাসা করলে কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি। ধারণা করা হচ্ছে বিওটির দখলদারদের প্রত্যক্ষ মদদে অর্থ কর্মকর্তা জিয়া এই সিল ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের অর্থ আদায় দেখিয়ে এবং মূল একাউন্টে জমা না দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে যার অংশীদার বিওটির দখলদার গ্রুপ এবং ড. আবু সাঈদ মোহাম্মদ আলী। উল্লেখ্য, প্রধান শাখার অনুমোদন ব্যতিত কোন লোকাল ব্যাংকও জমা সিল বানাতে পারে না তাহলে প্রশ্ন হলো অর্থ কর্মকর্তা জিয়া কীভাবে এই সিল বানিয়ে কাছে রাখলো। ঘটনা তদন্ত করলে রাঘব বোয়ালদের মুখোশ উন্মোচিত হবে।
অভিযোগে উঠেছে এই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়কে লুটেপুটে খাওয়ার চূড়ান্ত লক্ষে গত ৮ ডিসেম্বর আবু সাঈদ মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে মব সৃষ্টি করে ভিসি ও রেজিস্ট্রারকে বের করে দিয়ে এবং মূল ট্রাস্টকে অবগত না করে এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ লঙ্খন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে জনতা ব্যাংকে নিয়মিত একাউন্ট থাকা সত্ত্বেও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি, কুষ্টিয়া শাখায় (হিসাব নং- ১১৯১২২০০০১৬৫৯) একটি অবৈধ যৌথ অ্যাকাউন্ট খুলে । বৈধ হিসাব পরিচালক মো. কামরুল ইসলাম সিগনেটরি হতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বেআইনিভাবে অব্যাহতি দিয়ে দুর্নীতিগ্রস্থ অবৈধ রেজিস্ট্রার মো: নওয়াব আলী ও নারী কেলেংকারী ও ইসলামিয়া কলেজে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কুষ্টিয়া জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সেক্রেটারি মুহ. শামসুর রহমান বাবু ভুয়া রেজুলেশন দেখিয়ে উক্ত অ্যাকাউন্টের সিগনেটরি হন। বর্তমানে উক্ত অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফিসহ কোটি কোটি টাকার অনিয়মিত লেনদেন ও অর্থ তসরুপের আশঙ্কা করা হচ্ছে। আরো আশ্চার্যের বিষয় হচ্ছে বহিস্কৃত অর্থ কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান দূরে বসে কম্পিউটার স্ক্রীন শেয়ার করে রীতিমত অর্থের সকল কাজ করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যা ভয়াবহ সঙ্গবদ্ধ চক্রের অর্থ আত্মসাতের ঈঙ্গিত বহন করে। এই রাঘব বোয়ালদের হাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়কে বাচাঁতে এবং শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের কষ্টার্জিত অর্থের সঠিক হিসাব সংরক্ষণের দাবি সংশ্লিষ্টদের।