
মেহেরপুর সদর উপজেলার শোলমারি গ্রামে তৃতীয় শ্রেণির শিশু ধর্ষণ মামলায় রিগান হোসেন (৩৫) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা জরিমানা আদায়ের রায় দিয়েছেন আদালত। জরিমানা অনাদায় আরও এক বছরের কারাদণ্ড আদেশ দেন আদালত।
সোমবার দুপুরে এ রায় দেন মেহেরপুর নারী ও শিশু অপরাধ দমন ট্রাইবুনালের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় দেন। রিগান হোসেন মেহেরপুর সদর উপজেলার তেরোঘরিয়া উত্তর পাড়া গ্রামের আবুল কালামের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে চকলেট দেওয়ার নাম করে শিশুটিকে দোকানের মধ্যে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এসময় শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে রিগান তাকে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে শিশুটিকে রক্তাক্ত অবস্থায় রিগানের মা সখিনা খাতুন তার নানির বাড়িতে রেখে আসে। পরে নানির বাড়ির লোকজন তাকে মেহেরপুর হাসপাতালের ভর্তি করে, সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। জ্ঞান ফিরলে তার সাথে ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনা পরিবারের সদস্যদের জানায়। পরে ২০২৩ সালে ১৬ মার্চ তার চাচা শাহাবুদ্দিন মেহেরপুর সদর থানায় বাদী হয়ে ধর্ষণ করার অপরাধে একটি মামলা করে। রিগার হোসেন তার নিজের দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। ১৭ জনের স্বাক্ষর প্রমাণ শেষে ট্রাইবুনাল আদালত রিগান হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড, ২ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায় আরো এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিডিটর মুস্তাফিজুর রহমান তুহিন, আসামিপক্ষে অ্যাড. পল্লব ভট্টাচার্য ও ইব্রাহিম শাহীন কৌশলী ছিলেন।