প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 17, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ
Apr 12, 2026 ইং
পীরকে পিটিয়ে-কুপিয়ে হত্যা: বাউল শিল্পী শফি মন্ডলের বাড়িতে পুলিশ মোতায়েন

কুষ্টিয়া, রোববার ১২ এপ্রিল:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে দরবার শরিফে হামলা ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ এবং কথিত পীর আব্দুর রহমান শামীম (৬৫) ওরফে কালান্দার বাবা হত্যাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশের জনপ্রিয় বাউল সংগীত শিল্পী শফি মণ্ডলের বাড়িতে পুলিশ পাহাড়া বসানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান। এসময় তিনি জানান, নিরাপত্তা জনিত কারণে বাউল শিল্পী শফি মন্ডলের পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে তার বাড়িতে হামলা হতে পারে এ রকম সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই।
বাউল শিল্পী শফি মন্ডল বলেন,আমি গত একমাস গ্রামের বাড়িতে নেই,ঢাকাতে অবস্থান করছি। ওখানে কি হচ্ছে এটা তো আমি বলতে পারবো না। আমার মেয়ে গ্রামে আছেন তার সঙ্গে কথা বললে পুরো ব্যাপারটি জানতে পারবেন।
এ ব্যাপারে শফি মন্ডলের মেয়ে লিনা মন্ডল বলেন,আমার বাবা সাধক শিল্পী,সংগীতের জন্য মুলত তিনি বিভিন্ন দরবারে যান। ফিলিপনগর আমাদের বাড়ি যার কারণে তিনি এই দরবারে গিয়েছিলেন সে সময়ের ছবি ভিডিও আছে।যে ভিডিও ভাইরাল করে মব তৈরি করে শামীমকে হত্যা করা হলো।সেই ভিডিওতে আমার বাবাও আছে। আমার বাবা লালন দর্শনের অনুসারী একজন মানুষ।
তিনি আরও বলেন,যেহেতু আমরা লালন অনুসারী বা লালন দর্শন বিশ্বাস করি। সারা বিশ্বে তিনি লালন সাঁইজির বানীর প্রতিনিধিত্ব করেন। এখন এই মতের সাথে তো অন্য ধারনার মানুষের মিল নাও হতে পারে। কিন্তু আমরা আল্লাহ, আল্লাহর রাসুল সম্পর্কে ধ্যাণ করি। আমাদের জীবন আচরণ অবশ্যই ইসলামিক তবে আমরা সাঁইয়ের ধারা টাকেই লালন করি। যেহেতু ওই ছবিটা ভাইরাল হয়েছে,যে ছবিতে আমার বাবা আছেন। মব জাস্টিসের সাথে যারা জড়িত,তারা সেটি ভাইরাল করেছে। আমার বাবা একজন দেশ বরেণ্য শিল্পী যার কারণে সরকার মনে করেছেন তার নিরাপত্তা দেয়া দরকার তাই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এরআগে,পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগে শনিবার দুপুরে কথিত পীর শামীমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা।এসময় দরবার শরিফে হামলা,ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। নিহত শামীম ওই দরবার শরিফের প্রধান এবং এলাকায় কালান্দার বাবা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। দরবার শরিফে হামলায় তাঁর তিন অনুসারী-মহন আলী, জামিরুন নেছা ও জুবায়ের আহত হন।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে তার ময়নাতদন্ত শেষে বিকেল ৫টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপজেলার দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপনগর কবরস্থানে তার দাফন করা হয়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
নিহত শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান জানান, পরিবারের সাথে আলোচনা করে আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ Daily Satto Khobor