
বিশেষ প্রতিনিধি ॥ কুষ্টিয়া কালিশংকরপুর এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদক লেনদেন, অর্থ নেওয়া এবং এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল অভিযোগ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিজয় নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে রাসেল কবির নামের এক কর্মকর্তার কাছ থেকে মাদক সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন।
তাঁর দাবি, গত পরশু তিনি ৩০ হাজার টাকা দিলেও মাদক পাননি। টাকা ফেরত চাইলে বিজয় রাসেল কবিরকে ডেকে নিয়ে আসেন এবং তাকে মারধর করা হয়। সোহেল আরও অভিযোগ করেন, পরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে সেখানেও তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ এগিয়ে না এলে আমাকে হয়তো মেরে ফেলা হতো।
এ ঘটনার একজন প্রত্যক্ষদর্শী আমেনা বলেন, আবগারি পুলিশের সদস্যকে দেখে সোহেল বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়লে তাঁকে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং মারধর করা হয়। এলাকাবাসীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে তাঁকে উদ্ধার করে। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা মোসাম্মদ ছকিনা খাতুন বলেন, আমরা বাইরে এসে দেখি কয়েকজন মিলে সোহেলকে মারধর করছে। পরে এলাকাবাসী বাধা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মাঝেমধ্যে এলাকায় এসে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নেন এবং তাদের দিয়ে মাদক বিক্রি করান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, বউবাজার এলাকার মাগুর মাছের পুকুরপাড় নামক স্থান থেকে বিজয় নামের একজন সোর্স ৩০ হাজার টাকা নিয়েছেন মাদক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে। পরে মাদক দিতে এসে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়লে অতিরিক্ত আবগারি পুলিশ এসে তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাব-ইন্সপেক্টর রাসেল কবির বলেন, আমরা সোহেলকে ধরতে গিয়েছিলাম। আমাদের দেখে সে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় যা ঘটেছে তা নিয়মিত অভিযানের অংশ। মাদক লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি আজই প্রথম তাকে দেখেছি। এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।