এ কারণে গোটা উপজেলা বিদ্যুৎহীন রয়েছে।
কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার মিরপুরে বিদ্যুৎকর্মীরা ফুয়েল স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত আমান আজিজের অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইচ অফ রেখে প্রতিবাদ দেখাচ্ছেন।
এ কারণে গোটা উপজেলা বিদ্যুৎহীন রয়েছে।
কৃষি অধ্যুষিত মিরপুর উপজেলার সেচ, ছোট ছোট শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, ব্যাংকিং কার্যক্রম-সবকিছু থমকে পড়েছে বলে অভিযোগ উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের।
তবে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত আমান আজিজ অভিযোগ নাকচ করে বলেন, 'দেশব্যাপী তেল সংকটে উদ্ভুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সারা দেশের মতো এখানেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইন শৃংখলা বজায় রাখতে তৎপরতা চালানো হচ্ছে।
বৃহষ্পতিবার উপজেলার মল্লিক তেল পাম্পে সকাল থেকে সহস্রাধিক মানুষ তেল নিচ্ছিলেন।
এখানে যারা তেল নিতে এসেছিলেন তাদের কাউকে কোন বিশেষ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই। একারণে হয়ত কেউ সংক্ষুব্ধ হতে পারেন'।
মিরপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মারফত আফ্রিদি বলেন, ‘বুধবার (০৮ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর বৈরি আবহাওয়া ও বজ্রপাতের কারণে গ্রামাঞ্চলের বিদ্যুত লাইনের বিভিন্ন জায়গায় সমস্যা দেখা দেওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
রাতভর এবং বৃহষ্পতিবার দুপুর পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইলের চার্জও দেওয়া যাচ্ছে না। কপিম্পউটার চলছে না, ইন্টারনেটও বন্ধ। ফলে সকল প্রকার প্রযুক্তিনির্ভর কর্মকান্ড স্থবির হয়ে পড়েছে।
ধুবইল গ্রামের চাষি কুদরত আলী জাননি, 'মেঘ হলো, ধুমধার বজ্রপাত হলো ,কিন্তু প্রয়োজনীয় বৃষ্টি হলো না। বোরো মৌসুমের ধানক্ষেত পুরোটাই নির্ভর করে সেচের ওপর। বিদ্যুৎ না থাকায় ধান ক্ষেতে পানি দিতে পারছিনা।
অন্যের শ্যালো পাম্প থেকে পানি নেওয়ার জন্য ডপ হাতে করে পাম্পে আইছি তেল নিতে। এখানেও আরেক বিড়ম্বনা'।
কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মিরপুর অঞ্চলের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল বলেন, 'গতরাতের বৈরি আবহাওয়া ও বজ্রপাতের ঘটনায় প্রায় দেড় শতাধিক গ্রাহকের অভিযোগ জমা পড়ে। ফলে রাত থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল।
বৃহস্পতিবার সকালে আমরা আমাদের সকল লাইনম্যানকে কাজ বুঝিয়ে দিয়ে মিরপুর মল্লিক তেল পাম্পে ৪টি মোটর বাইকে তেল নিতে যায়। সেখানে গিয়ে প্রায় সহস্রাধিক মানুষের দীর্ঘলাইন দেখে বিষয়টি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি।
বিষয়টি ওই পাম্পে উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অনুরোধ করতে বলি যাতে জরুরি বিবেচনায় স্বল্প সময়ের মধ্যে আমরা তেল নিয়ে কাজে যেতে পারি। পরে আমরা ইউএনও স্যারকে গিয়ে অনুরোধ করি বিষয়টি বিবেচনা করতে।
কিন্তু উনি (ইউএনও) আমাদের অনুরোধ তো শুনেন নাই, উপরন্ত আমাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং আমাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুমকি দেন।
এই অবস্থায় আমরা তেল না পেয়ে আমাদের উপকেন্দ্রে ফিরে আসি'।
কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মিরপুর অঞ্চলে দায়িত্বরত উপ-মহাব্যবস্থাপক আরিফুল হক ঘটনারর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, 'জরুরি বিদ্যুৎ সেবা চলমান রাখতে আমাদের কারিগরি কাজের কর্মীরা ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে যায়।
কিন্তু, সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার খারাপ আচরণের মুখে তারা তেল না পেয়েই ফিরে আসে। গাড়ির তেল না পেলে বিদ্যুৎসেবা চালু হবে কিভাবে? এতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ায় আমাদের দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া উপায় নাই’।
বিষয়টি নিয়ে মুঠোফোনে আলাপকালে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন হাসান বলেন, 'বিষয়টি আমি শুনেছি। এটা দেখার জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে’।
আপনার মতামত লিখুন :